Home / জীবনযাপন / আজব! এই অন্তঃপুরে নির্যাতিতা আইসিইউতে আর নির্যাতনকারীকে রক্ষার জন্য শিষ্যরা অন্তঃপুরের রাজপথে।

আজব! এই অন্তঃপুরে নির্যাতিতা আইসিইউতে আর নির্যাতনকারীকে রক্ষার জন্য শিষ্যরা অন্তঃপুরের রাজপথে।

নিজ মাদরাসা অধ্যক্ষের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর মামলা করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার প্রত্যয় জানিয়ে চিরকুট লিখে যানঃ “আমি লড়বো শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানেই তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেব যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেব ইনশাআল্লাহ।”

আমাদের বোন নুসরাত জাহান রাফি মরে যেয়ে হারতে চাননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাচতে চেয়েছিলেন। সে শুধু অন্যায় না মৃত্যুর সাথে লড়াই করে পরাজিত হয়ে এই নিষ্ঠুর অন্তঃপুর হতে বিদায় নিলেন। আর আমাদেরকে শিখিয়ে গেলেন কিভাবে মৃত্যু শয্যায় শায়িত হয়ে অন্যায়ের কাছে আপোষহীন হতে হয়। কিন্তু কি নিষ্ঠুর এই অন্তঃপুর, কি নিষ্ঠুর এই অন্তঃপুরের বাসিন্দারা। আজব! এই অন্তঃপুরে নির্যাতিতা অাইসিইউতে মরণ যন্ত্রণায় জীবনের অন্তিম মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করে আর নির্যাতনের মূল হোতাকে রাক্ষার জন্য তার শিষ্যরা অন্তঃপুরের রাজপথে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। দেখুন কি আজব এই অন্তঃপুর! যেটা হওয়ার সেটা হয় না, যেটা করা মানবিক ও নৈতিক সেটা এই অন্তঃপুরবাসী করে না কিন্তু যেটা অনৈতিক ও অমানবিক, স্বার্থের কারণে স্বার্থপরের মতো হরহামেশাই করছে এবং একত্রে দলবদ্ধ হয়ে করছে। দুঃখ হলো রাফির জন্য কোনো নারীবাদীকে মুখ খুলতে দেখলাম না, দেখলাম না কোনো প্রতিবাদ করতে করণ সে বোরখা পরে । দেখলাম না কপালে বড় লালটিপ পরা প্রগতিশীল কোনো বড় আপুদেরকে ব্যানার হাতে শহীদ মিনার কিংবা রাজু ভস্কার্যের পাদদেশে প্রতিবাদ করতে কারণ নুসরাত মাদরাসা ছাত্রী। যারা ওয়াজে নারীর পোশাক নিয়ে গলা ফাটান, মুখে ফেনা তুলেন – সেই সব হুজুর,মৌলবীদের কাছে প্রশ্ন শালীনতায় মুড়ে থাকা আমাদের বোনকে কেনো পুড়ে মরতে হলো ? মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীদের তেমন কোনো ভূমিকা দেখলাম না কারণ নির্যাতনের মূল হোতা যোব্বা পরা কাঠ মোল্লা তাদেরই সহকর্মী।

“ডায়িং ডিক্লেয়ারেশন” এ রাফি যেটা বলেছে সেটা মিথ্যা হতে পারে না। কারণ আমি বিশ্বাস করি মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করা কোনো মরণ পথযাত্রী মিথ্যা বলতে পারে না, ছলনা করতে পারে না। তাহলে কিভাবে মিথ্যার পক্ষ নিয়ে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার নিজ সহকর্মীরা তাকে হত্যা করতে সচেষ্ট হলো। কেমন করে তার সহপাঠীরা একজন নির্যাতিতা মরণ পথযাত্রীর বিরুদ্ধে রাজপথে নামলো। কিভাবে মাদরাসা অধ্যক্ষকে মুক্তির জন্য প্রতিবাদ সমাবেশ করলো। এমনকি প্রতিবাদ সমাবেশ হতে অধ্যক্ষের অনুসারীকে আঙ্গুল উচিয়ে হুংকার দিয়ে বলতে দেখলাম, সোনগাজীর এই মাদরাসা হতে শুধুমাত্র ছাত্রলীগ, ছত্রদল,ছত্র শিবির হয় না বড়ো বড়ো আলেমও তৈরি হয়। কিন্তু তাদের কর্মকান্ডে বলে সোনাগাজীর মাদরাসা হতে বড়ো বড়ো জানোয়ারও তৈরি হয়। যার উৎকৃষ্ট উদাহারণ অন্যায়ের পক্ষ নিয়ে রাজপথে প্রতিবাদ করা জানোয়ার গুলো আর তাদের পৃষ্ঠপোষকতাকারীরা।

এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, তাদেরকে কোনো গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ হাঁচিলের জন্য অন্যায়ের পক্ষ নিতে বাধ্য করেছে কি না। যেখানে নৈতিকতা ও মানবিকতার দাবি ছিলো রাফির সহপাঠী, সিনিয়র, জুনিয়র ও মাদরাসা সংশ্লিষ্ট সকলেই তার প্রতি যে হয়রানি নির্যাতন হয়েছে তার প্রতিবাদে রাজপথে সোচ্চার থাকা। যতোদিন না নির্যাতনের মুল হোতাদের গ্রেপ্তার করে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হয়। কিন্তু কিসের স্বার্থে সেটার সম্পূর্ণ বিপরীত কর্মকাণ্ড দেখলাম। এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা? নিশ্চয়ই প্রভাবশালী কোনো মহলের এখানে হাত রয়েছে। যারা পর্দার আড়ালে বসে কলকাঠি নাড়ছে। কি তাদের স্বার্থ, কি তাদের উদ্দেশ্য? কারা দুর্জন চরিত্রে একটা মানুষকে উক্ত মাদরাসা অধ্যক্ষ বানালো। কোন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এমন একটা লম্পটকে মাদরাসা প্রধান করলো। যে কিনা সন্তানতূল্য ছাত্রীকে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে কুপ্রস্তাব দেয়। সে তো আগেও এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জড়িত ছিল বলে পত্র-পত্রিকাতে জেনেছি।

মাদরাসার পুরনো ভবনের তৃতীয় তলায় হেফজখানার পাশে দুটি কক্ষে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন বা হিসাব-নিকাশ ছাড়াই অবৈধভাবে একটা ছাত্রাবাস গড়ে তুলেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ। সেখানে পরীক্ষার্থীদের নাম করে তাঁর ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা থাকত। গরীব শিক্ষার্থীদের খাবার হতে খাবার সরিয়ে তাদেরকে বিনামূল্যে খাওয়ানো হতো বলেও জেনেছি। রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার আগের রাতে সেখানে অধ্যক্ষের কয়েকজন অনুসারী একত্রে মিলিত হয়েছিলো বলে জানা যায়। কিন্তু এখোনো পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে ধরতে পারিনি প্রশাসন। এই ঘটনা যারাই ঘটাক না কেন তারা ঐ অধ্যক্ষের কাছে অনুমতি না নিয়ে ঘটায়নি এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অধ্যক্ষকে টানা রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার সাথে যারা যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত খুঁজে বের করা হোক এবং দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তানাহলে পুলিশ প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষে আরো অনাস্থা তৈরি হবে যেমনটা হয়েছিলো কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে তনু হত্যাকান্ডের পর।

হাফিজুল ইসলাম হাফিজ
বিএসএস (অনার্স), এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), ঢাবি।

About বাংলার নিউজ ডেস্ক

Check Also

লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেনের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়ায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেমিনার

স্টাফ রিপোর্টার : লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেনের উদ্যোগে গতকাল চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়ায় দিনব্যাপী বিভিন্ন …

“পাটাভোগ ইউনিয়ন ফাউন্ডেশন” – বন্যা কবলিত গ্রাম বাসিদের এান বিতরন।

“পাটাভোগ ইউনিয়ন ফাউন্ডেশন” – আয়োজিত বন্যা কবলিত গ্রাম বাসিদের মাঝে এান সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমে আজ …

সোনাইমুড়ি স্বেচ্ছাসেবক লীগের মাস্ক বিতরণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *