Home / প্রচ্ছদ / খুলনা-৬ আসনে (পাইকগাছা-কয়রা) ডজন খানেক নতুন-পুরাতন প্রার্থীর চলছে গণসংযোগ

খুলনা-৬ আসনে (পাইকগাছা-কয়রা) ডজন খানেক নতুন-পুরাতন প্রার্থীর চলছে গণসংযোগ

খুলনা: 

পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ এন.কে রায়ঃ খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্য দলের মোট ১২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী আঁটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। দলের সবুজ সংকেত পেতে অব্যাহত চেষ্টা চলছে তাদের। তারা যেমন কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন, ঠিক তেমনি করেই তৃণমূলেও করছেন গণসংযোগ।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মো. নূরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব আলী সানা, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব রশীদুজ্জামান মোড়ল। এলাকায় তারা গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ মো. নুরুল হক।

গতবছর পাইকগাছা উপজেলায় বিরোধপূর্ণ ৫০ শতক জমির চারপাশে উঁচু দেয়াল তুলে দেন সংসদ সদস্য নূরুল হকের লোকজন। তাতে ওই দেওয়ালের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেখানে বসবাসকারী আবদুল আজিজ গোলদারের পরিবার। তারা দীর্ঘদিন ধরে মই লাগিয়ে দেওয়ালের ওপর দিয়ে এবং গর্ত খুঁড়ে দেওয়ালের নিচ দিয়ে চলাচল করতে থাকেন। যা দেশে ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায়ও প্রচারিত হয়। তৈরি হয় তোলপাড়। ওই দেওয়াল ভেঙে ফেলে উপজেলা প্রশাসন। দলীয় সভাতেও নুরুল হককে ভৎর্সনা করা হয়। এছাড়া তার ছেলের বিরুদ্ধেও ওই এলাকায় ইটভাটা দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনের সংসদ সদস্য হন সোহরাব আলী সানা। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপকূলীয় এলাকার বাঁধ নির্মাণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠতে থাকে সোহরাব আলী সানার বিরুদ্ধে।

এদিকে বর্তমান ও সাবেক এমপির ইমেজ সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বেড়েছে আকতারুজ্জামান বাবুর।

তৃণমূল নেতারা বলেন, দলের তৃণমূলে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছেন তরুণ নেতা বাবু। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তিনি এলাকায় কাজ করছেন।

ড. মশিউর রহমান প্রায় এক বছর ধরে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারণা চলছে জোরেশোরে।

অনেকে মনে করছেন, হেভিওয়েট এ প্রার্থীকে দলের সভানেত্রী মনোনয়ন দিলেও দিতে পারেন।

আকতারুজ্জামান বাবু  বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হলে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে সে বিষয়ে আমি আশাবাদী।

সোহরাব আলী সানা  বলেন, আমি আশাবাদী মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে। বাকিটা আল্লাহর হাতে। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে মনে করছি।

এদিকে জামায়াত অধ্যুষিত খুলনা-৬ আসনটি আবারও ফেরত পেতে চায় বিএনপি নেতারা। ইতোমধ্যে মনোনয়ন পেতে এলাকায় কাজ করছেন খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু।

তৃণমূল নেতারা বলছেন, দলের দুঃসময়ে, কর্মীদের দুঃসময়ে যিনি পাশে থাকেন তিনি হলেন মনা। বিগত দিনের সংসদ ও খুলনা সিটি নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের দাবিদার তিনি।

শফিকুল আলম মনা  বলেন, আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর নির্বাচনের কথা নিয়ে ভাবনা। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকবো। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচন করার জন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে আমার। দলের কাছে আমি এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবো।

এসএম রফিকুল ইসলাম  বলেন, বহিরাগত কাউকে খুলনা-৬ আসনে দেখতে চাই না। এলাকার মানুষ তরুণ নেতৃত্ব চায়। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির অতি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেছি। অনেক দিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সেখানে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

আবুল কালাম আজাদ  বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে আমার বাড়ি কয়রায়। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে ২০০৮ সালের পর জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ আসনে আমার নাম ঘোষণা করা হয় দল থেকে। সেই থেকে আমি যতটুকু প্রয়োজন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

২০ দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে এ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশা করেন তিনি।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা গাজী নুর আহমদকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি বা অন্য দলের কারও নাম শোনা যাচ্ছে না।

এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে খুলনা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা স ম বাবর আলী। ১৯৭৯ সালে বিএনপি নেতা শেখ রাজ্জাক আলী এবং ৮৬’র নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মোমিন উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শেখ মো. নুরুল হক, ২০০১ সালের চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে এই আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন শেখ মো. নূরুল হক।

খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলায়  মোট ভোটার দু’লাখ ১৮ হাজার ৫৬৬ জন আর কয়রা উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৯০৪ জন।

About বিশেষ প্রতিনিধি

Check Also

মান্দায় বন্যা কবলিত অঞ্চল পরিদর্শন করলেন বিএনপির নেতা মকলেছুর রহমান

শাহাদৎ রাজীন সাগর, স্টাফ রিপোটারঃ নওগাঁর মান্দায় ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির …

কুষ্টিয়া শহরের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ও খাবার প্রতিষ্ঠান আলোকিত মৌবন।

একটি মানুষ। সাফিনা আনজুম জনী Safina Anzum Jony। কিন্ত তিনি অনেকের কাছে আলোকবর্তিকা হিসেবেই উপাখ্যান। …

আজ পাইকগাছা পৌরসভার মাধ্যমে নবলোক এর হাইজিন কিট বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ এন.কে রায়ঃ আজ পাইকগাছা পৌরসভার ২টি (৩,৪)ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর দ্বয় নিজ নিজ ওয়ার্ডের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *