Home / প্রচ্ছদ / পাইকগাছায় অবশেষে নির্মিত হতে চলেছে বঙ্গবন্ধু ইকোপার্ক

পাইকগাছায় অবশেষে নির্মিত হতে চলেছে বঙ্গবন্ধু ইকোপার্ক

পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ এন.কে রায়ঃ আগামী কাল শনিবার বিকালে প্রস্তাবিত ইকোপার্কের নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষিত সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর মধ্যোদিয়ে নির্মিত হতে চলেছে বঙ্গবন্ধু  ইকোপার্ক। এই সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর শুভসূচনা করবেন জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু ও পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  জুলিয়া সুকায়না। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে বাস্তবায়িত ও নির্মিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ইকোপার্ক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাইকগছার স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণের অংশ হিসেবে স্মৃতি বিজড়িত নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ইকোপার্ক।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের নির্বাচন উপলক্ষে নভেম্বর মাসের দিকে পাইকগাছায় সফর করেন। বিকাল ৩টায় পাইকগাছার জনসভায় যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি ল যোগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাইকগাছা পৌছান। তিনি আওয়ামীলীগ অফিসে উপস্থিত সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনের পর আবারো আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।

এর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সারা দেশে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধ। গ্রেপ্তার হন শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাঙ্গালী জাতি অর্জন করে মহান বিজয়। স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।

কয়রা-পাইকগাছা, খুলনা ৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবং জুলিয়া সুকায়না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অত্র উপজেলায় যোগদান করার পর বঙ্গবন্ধুর এসব স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। ইউএনও জুলিয়া সুকায়না বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য গত ১১ই এপ্রিল সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা স.ম. বাবর আলীকে সাথে নিয়ে সরেজমিন যান। বেশ কয়েকবার সরেজমিন যাওয়ার পর তিনি স্মৃতি বিজড়িত স্থান নির্ধারণ করেন। সংসদ সদস্য ও ইউএনও স্মৃতি বিজড়িত স্থানে একটি দৃষ্টি নন্দন ইকোপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মহৎ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপজেলা আইনশৃংখলা ও সাধারণ সভায় প্রস্তাবনা আকারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার মাধ্যমে অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এলাকাবাসীর বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণ ও নির্ধারিত স্থানে নির্মিত হতে যাচ্ছে “বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ইকোপার্ক”।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার ইকবাল মন্টু বলেন, আওয়ামীলীগ দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর অনেক স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু পাইকগাছার স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ করার কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। দেরিতে হলেও সংসদ সদস্য ও ইউএনও মহোদয় স্মৃতি বিজড়িত স্থানে যে ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে এমপি ও ইউএনও মহোদয়কে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ সহ দেশবাসী স্মরণীয় করে রাখবে

ইউএনও জুলিয়া সুকায়না বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান ব্যক্তির স্মৃতি সংরক্ষণ করতে কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয় এবং বিষয়টি যাতে কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। একটু বিলম্বিত হলেও সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গভীর শ্রদ্ধার সাথে মহৎ এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমি সারাজীবন এখানে কর্মরত থাকব না। তবে জাতির পিতার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে ইকোপার্কের নির্মাণ কাজ শুরু এবং সম্পন্ন করে যেতে পারলে ব্যক্তিগতভাবে আত্মতৃপ্তি পাইব। ইতোমধ্যে ভূমি বন্দোবস্তসহ প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী এ কর্মকর্তা জানান।

সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদাভাবে ভাবার কোন সুযোগ নাই। কারণ, মহান এ নেতার জন্ম না হলে আমরা পেতাম না স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ। আমি এমপি হতে পারতাম না। তিনি দেশকে শুধু স্বাধীন করেই ক্ষ্যান্ত হননি দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মহান এই ব্যক্তির স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি ইকোপার্ক নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কারণে কাজ শুরু হতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে পার্কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এক দিকে এলাকার মানুষের চিত্ত বিনোদনের চাহিদা পূরণ হবে। অপরদিকে, তরুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবে।

About বিশেষ প্রতিনিধি

Check Also

উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের নির্দেশনায় ছাত্রলীগ নেতা আক্তারুল আলম সুমনের সবজি বিতরন।

ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদের নির্দেশনায় গভীর রাতে মানুষের বাড়ি বাড়িতে সবজি পৌছে …

ডুমুরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও সবজি বিতরন

আক্তারুল আলম সুমন-খুলনা ব্যুরো প্রধান ডুমুরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও …

তৃতীয় দফায় অসহায় কৃষকের ধান কেটে দিলো খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ

আক্তারুল আলম সুমন-খুলনা ব্যূরো প্রধান বর্তমান দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *