Home / খুলনা / “মুসলিম লীগ অধ্যুষিত খুলনা-২ সদর আসনের সর্বত্র নৌকার পাল তুলেছেন এমপি মিজান “—-

“মুসলিম লীগ অধ্যুষিত খুলনা-২ সদর আসনের সর্বত্র নৌকার পাল তুলেছেন এমপি মিজান “—-

খুলনা মহানগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা নিয়ে গঠিত খুলনা-২ সদর আসন। ১৯৭৩ সালের পর ৪০ বছরে আর কখনো খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারেনি। ফলে এটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যায়। তবে ৪০বছর পর গত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহম্মদ মিজানুর রহমান এ আসনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে চিত্র বদলে যায়। এ আসনের ভোটের মাঠে এখন আওয়ামী লীগ বিএনপি সমানে সমান বলে মনে করছেন সবাই।
৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহম্মদ মিজানুর রহমান পরাজিত হন। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বিপরীতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের মুহম্মদ মিজানুর রহমান। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও মিজানের বিজয় নিয়ে আশায় রয়েছেন নেতাকর্মিরা।
তৃনমূল নেতাকার্মিদের দাবি গত ১০বছরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ মিজানুর রহমান বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে সু-সংগঠিত করেছেন। তাছাড়া বিগত ১০বছরে খুলনায় আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা মিজানের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৯৭৩ সালে) এই আসনে জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ বারী। এরপর ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ আসনে জয়ের মুখ দেখেনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। একের পর এক বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে এই আসনের গুরুত্ব বুঝে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এই আসন থেকে নির্বাচিত অন্য সংসদ সদস্যরাও বিগত সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এই আসনে জয়ী হন বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট শেখ রাজ্জাক আলী। তিনি ৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দেয়ার পর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দল সরকারে না থাকায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও তাকে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অপরদিকে ৪০বছর পর ফিরে পাওয়া খুলনা-২ আসনটি আগামী সংসদ নির্বাচনে ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান এমপি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ মিজানুর রহমান মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কাজ করছেন। সব পর্যায়ের মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে সভা, সেমিনার, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ধরতে গেলে তিনি এখন খুলনা মহানগরের রাজনীতির নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় রয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মাত্র এক হাজার ৬৭০ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কাছে পরাজিত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের মাধ্যমে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। একাদশ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে ধরে নিয়ে সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
১৯৮৪সালে খুলনা নগর যুবলীগের হাল ধরা ও ২০০২সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত হওয়া মুহম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে খুলনাবাসীর মন জয় করেছেন। ‘বর্তমান সরকারের আমলে খুলনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। খুলনার রাজনৈতিক মাঠ এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের দখলে। কোনো ষড়যন্ত্র জাতির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না। দল মনোনয়ন দিলে অব্যাহত উন্নয়নে খুলনাবাসীর পাশেই থাকবেন বলে জানান তিনি।

About Sheikh Fuad

Check Also

সোনাইমুড়ীতে ইউপি সদস্যের নির্দেশে সংখ্যালঘুর বাড়ী ভাংচুর কামরুল হাসান সবুজ(সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি): নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ইউপি সদস্যের …

ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, চালককে গুণতে হল ৫০০০ টাকা

ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, চালককে গুণতে হল ৫০০০ টাকা _____________________________ খান মাহমুদ : শুরু হয়ে গেছে …

“দুর্নীতিতে চ্যামপিয়ন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল” ৪ কোটির মেশিন ক্রয় সাড়ে ১২ কোটিতে, অবশেষে গেলো ভাগাড়ে

“দেশের স্বাস্থ্যখাত চরম দুর্নীতিগ্রস্থ, চলছে লুটেপুটে খাওয়ার ওপেন প্রতিযোগীতা” খাঁন মাহমুদ : একটি এমআরআই (মেগনেটিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *