Home / খুলনা / “হায় সেলুকাস” আদর্শ অাজ ব্যক্তি স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ।

“হায় সেলুকাস” আদর্শ অাজ ব্যক্তি স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ।

হায় সেলুকাস; ভাবতে অবাক লাগে দিন দিন বহু মানুষের নীতি নৈতিকতা, আদর্শ সবই ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রীক পরিনত হচ্ছে । ব্যক্তি স্বার্থই এখন মানুষের এই মৌলিক গুণাবলি কে নিয়ন্ত্রণ করছে। স্বার্থের কারণে মানুষ তার নীতি নৈতিকতা কে বিসর্জন দিয়ে আদর্শহীন কে বুকে টেনে নিচ্ছে আবার আদর্শবানকে দুর হতে দুরে ঠেলে দিচ্ছে। এই ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রীক মানুষ গুলো মুখে আদর্শের বুলি আওড়িয়ে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সব অর্জন গুলো বিলীন করতে আজ বড়ই উদ্যমী। আমি আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি। কিছু মানুষ ব্যক্তি স্বার্থকে এতটাই গুরুত্ব দেয় যে খুব সহজেই তারা সাদা কে কালো, কালো কে লাল,লাল কে যে কোন রূপ দিয়ে দিবে শুধু মাত্র নিজ স্বার্থে। যদি বলেন কেমন সেটা? উত্তর দিচ্ছি, এই ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রীক মানুষ গুলো নিজ এলাকার, বাড়ির কাছের সহজ সরল, নিরীহ মানুষ গুলোর পিছনে লেগেই থাকবে। যদিও ঐ মানুষগুলো তাদের প্রতিবেশী, আত্মীয় এমন কি রক্তের সম্পর্কের। একটা কথা বলা দরকার, তারা কিন্তু নিজ গ্রাম,নিজ এলাকার বাহিরে কারোর পিছনে লাগবেনা। কারণ, তাহলে পিঠ বাঁচানো এবং গ্রামের বাহিরে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। এরা আদর্শের নামে, দলের নামে হুংকার দিয়ে বাড়ির আশে পাশের নিরীহ লোক, যারা রাজনীতি বোঝেনা নিজেদের পেট নীতি নিয়ে ব্যস্ত তাদের জন্য সুন্দর ও মসৃণ বাঁশ তৈরিতে ব্যাস্ত। একটু উনিশ বিশ হইলে কিংবা কোনো একটা সুযোগ পেলেই বান্দা তৈলাক্ত বাঁশ নিয়ে হাজির।

মজার ব্যাপার হলো ঐ সব লোগগুলো এক সাথে হাজির হবে কেউ পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে। পক্ষের হোক আর বিপক্ষের হোক ভাগাভাগিটা আবার দুই পক্ষের সবার সমানে সমান হবে। এদের চরিত্রের সাথে লোকালে প্রচলিত একটা প্রবাদের মিল পাওয়া যায় যেটা হলো “মুচির ছুঁয়ে ভাগ”। ছোট বেলায় এলাকাতে চৈত্র মাসে প্রায়ই মানুষের গুরু-মহিষ মরতে দেখতাম। মানুষ যখন মড়া গুলো ভাগাড়ে ফেলতো তখন মুচি (সনাতনধর্মের নিম্ন বর্ণ বিশেষ) এসে মড়ার চামড়া ছাড়িয়ে বিক্রয় করতো। তবে মজার ব্যাপার হলো চামড়া ছাড়ানোর শেষ মুহূর্তে এসেও যদি কেউ তাকে সামান্য সাহায্য করতো তবে ভাগটা সমানই পেতো। আজ এই সকল ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রীক নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ গুলোর পেশাই “আজ ছুঁয়ে ভাগ” নেওয়ার সদৃশ্য। এরা আজ মুখে আদর্শের বুলি আওড়িয়ে হুংকার দেয় অথচ ভালো ভাবেই মনে পড়ে এদের অতীত। এরা নিজ প্রতিবেশীকে ব্যক্তি স্বার্থে কারণে আদর্শহীন বানিয়ে যা ইচ্ছা তাই হয়রানি করে। অথচ কথা দিচ্ছি খোঁজ নিয়ে দেখুন, নিজ ঘরে (আদর্শহীন পদধারী)নির্বাচনের ২/৩ মাস আগেও আওয়ামী লীগের গুষ্টি উদ্ধার কারা লোক আছে। এরা স্বার্থের কারণে আদর্শহীনকে মঞ্চে পাশে বসার জায়গা করে দিবে আবার স্বার্থের কারণে নিজ আদর্শে বিশ্বাসীকে পাশে বসতে না দওয়ার জন্য নিয়মিত যুদ্ধ ঘোষণা করবে। এরা নিজেকে জনপ্রতিনিধির কাছের লোক বলে পরিচয় দিবে, জনপ্রতিনিধির নামে বিভিন্ন অপকর্ম, দখলবাজি চালিয়ে যাবে। অথচ সব সময় জনপ্রতিনিধি কে আড়ালে রেখে কিংবা জনপ্রতিনিধির কাছের কাউকে ভূগোল, ইতিহাস বুঝিয়ে মুল ঘটনা ছাঁই চাপা দিয়ে নিজ স্বার্থ উদ্ধার করবে। উক্ত এলাকার জনপ্রতিনিধির সব থেকে কাছের, বিশস্ত বলে প্রচার প্রচারণা করবে। অথচ জনপ্রতিনিধিকে এই সকল অপকর্মের বিষয়ে কেউ অবগত করতে পারবে না। কারণ সাধারণত গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো জনপ্রতিনিধিকে এই বিষয় গুলোর জানানোর সুযোগ তেমন পায়না। আর পেলেও কেউ যদি তাদের অপকর্ম সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিকে এই সকল বিষয় অবগত করে তবে পর মুহূর্তে তাদেরকে রাস্তা ঘাটে অথবা বাড়িতে গিয়ে পরবর্তীতে দেখে নিবে বলে শাসিয়ে আসবে। এটাই কি আদর্শ “হায় সেলুকাস” আদর্শ আজ ব্যক্তি স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ।

এই সকল ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রীক মানুষ আজ দেশের সকল প্রান্তে, সকল এলাকায় বিরাজমান। এই নামসর্বস্ব নৈতিকতা বিবর্জিত আদর্শের বুলি আওড়ানো মানুষ গুলোর উৎপাতে তার নিজ প্রতিবেশী, সাধারণ মানুষ আজ বড়ই অনিষ্ট হয়ে উঠছে। এই সাধারণ মানুষ গুলো রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝে না,রাজনীতির খোঁজটাও তেমন রাখেনা ওরা শুধু শান্তি খুঁজে। জিডিপি, স্যাটেলাইট, সাবমেরিন ক্যাবল,কর্ণফুলী ট্যানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেগা প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, ভিশন ২০২১, ডেল্টা প্রকল্প, টেকসই উন্নয়ন ইত্যাদি বুঝে না। ওরা নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় শুধু শান্তি খুঁজে।

আমার ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের মানুষের জন্য আমাদের কল্পনার থেকেও বেশি উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েক বছরে দেশের সব প্রন্তের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন মানের কল্পনাতীত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আজ দেশের প্রত্যেকটি মানুষ এই পরিবর্তনের পক্ষে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান সবাই স্বীকার করে তার জন্য দোয়া করে। এবং সাথে সাথে সবাই নামসর্বস্ব আদর্শধারী মানুষের উৎপাত হতে রক্ষার জন্য উপায় খোঁজে। জাতীয় নির্বাচনের মাস চারেক আগে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার সাথে আড্ডার ছলে কথা হচ্ছিল। তিনি ঠিক এমনটাই বলেছিলেন যে, “দেশের প্রায় সব প্রান্তের সাধারণ মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুবই ভালো বলে এবং তার উপর আস্থা রাখে। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ মানুষ তার বাড়ির আশেপাশের নামসর্বস্ব, নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত নেতাদের হয়রানি এবং উৎপাত হতে মুক্তি চাই।”
তাদের সকলের কথা একটা, শেখের বেটি/ শেখ হাসিনা/ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইগুলো কেন কেউ বলেনা। তারা সকলেই বিশ্বাস রাখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয় গুলো জানলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু দায়িত্বশীলদের কাছে এই বিষয় গুলো ওপেন সিক্রেট এর মতো। জানে সবাই আবার কেউ জানেনা। অতি দ্রুত এই সকল নামসর্বস্ব নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত নেতাদের হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। তানাহলে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সকল অর্জন বিলীন হতে বেশি সময় লাগবে না।

লেখক:

মোঃ হাফিজুল ইসলাম (হাফিজ )
বিএসএস(অনার্স), এমএসএস(রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ঢাবি।

 

About বাংলার নিউজ ডেস্ক

Check Also

ডুমুরিয়ার গর্ব ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ইউজিসির সদস্য মনোনীত হয়েছেন,উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের অভিনন্দন

আক্তারুল আলম সুমন ; খুলনা ব্যুরো প্রধান : ডুমুরিয়ার কৃতি সন্তান,সাবেক মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র …

“পাটাভোগ ইউনিয়ন ফাউন্ডেশন” – বন্যা কবলিত গ্রাম বাসিদের এান বিতরন।

“পাটাভোগ ইউনিয়ন ফাউন্ডেশন” – আয়োজিত বন্যা কবলিত গ্রাম বাসিদের মাঝে এান সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমে আজ …

১৩নং গুটুদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পরিশ্রমী ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান সানার নেতৃত্বে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী।

আক্তারুল আলম সুমন-খুলনা ব্যুরো প্রধান: মুজিব শতবর্ষে আহবান ৩ টি করে গাছ লাগান। ১৩ নং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *